in artical

দেশের গ্রামাঞ্চলে আরও আগে শুরু হলেও গত এক সপ্তাহ রাজধানী ঢাকায়ও শীত পড়তে শুরু করেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে মানুষের স্বাস্থ্যগত নানা পরিবর্তন হয়। নানা সমস্যা দেখা দেয়। শীতের শুরুতেই জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগ বেড়ে যায়। ডায়রিয়া সংক্রমণও বাড়ে। সব মিলিয়ে শীতকালীন নানা রোগব্যাধির প্রকোপ শুরু হয়েছে।

চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গত এক মাসে দেশে ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এরপরই রয়েছে শীতকালীন বিভিন্ন রোগ ও শিশুদের নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগব্যাধি। একই সঙ্গে জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ. জ্বরসহ নানা রোগেও আক্রান্ত হয়েছে পৌনে এক লাখেরও বেশি মানুষ। শীতকালীন অসুস্থতাজনিত কারণে এই সময়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে ২০ জেলার তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সেই বছরের ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় সাত হাজার ৩৭৬ জন ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগে তিন হাজার ৬৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরের বছর ২০১৮ সালে ২১ জেলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এতে ডায়রিয়ায় ১৬ হাজার ৫৮ জন ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগে ২৭ হাজার ৬৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের  তথ্য সংরক্ষণ করে। এবার ৬২ জেলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে গত ১ নভেম্বর হতে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, একক রোগ হিসেবে ডায়রিয়ায় সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার ৫৫৪ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। দু’জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে। এরপরই অ্যাক্যুইট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এআরআই) শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রমণে ২৬ হাজার ৭৯৪ জন আক্রান্ত ও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ ও জ্বরে ৭৮ হাজার ৫৬৮ জন আক্রান্ত এবং ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।