সর্বশেষ আপডেট

সপ্তাহে তিন দিন বা তার বেশি ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঘুমোতে সমস্যা, অল্প সময় ঘুম হওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি ভাব, সারা দিন খিটখিটে ভাব ইত্যাদি ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রার লক্ষণ। মস্তিষ্কের নিউরোহরমোনাল অসামঞ্জস্য অনিদ্রার অন্যতম কারণ।

এমন সমস্যার কারণে কর্মক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা ও মনোযোগ কমতে পারে। শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে। যেমন, ওজনাধিক্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগের ঝুঁকি বাড়ায়।ঘুম ভালো না হলে নানারকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সুস্থ, সবল, সুন্দর ও সতেজ থাকতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। অথচ, বর্তমান ব্যস্ত নাগরিক জীবনের নানা চাপে নিদ্রাহীনতা এখন ঘরে ঘরে জেকে বসেছে। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর শরীর যেন আর চলতে চায় না। মনে হয়, কোথাও একটু হেলান দিতে পারলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারব। কিন্তু সেই মনে হওয়াটা মিথ্যা প্রমাণ হয় তখনই যখন রাতে বিছানায় শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দিলেও ঘুম আসে না। এ অবস্থায় বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতেই কেটে যায় রাতের অনেকটা সময়। ঘুম না আসার কারণে কাজে মন বসে না, মেজাজ খিটখিটে থাকে, মাথা ঝিমঝিম করে, মাথা ঘোরায়, নিদ্রালুভাব, শরীর দুর্বল হয়ে যায়। ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। বাধ্য হয়ে অনেকেই ঘুমের ওষুধের বা ডাক্তারের দারস্থ হন। আসুন জেনে নিই ঘুম না হওয়ার কারণ ও প্রতিকারে কী করণীয়-

অনিদ্রার কারণ-
ঘুম না আসার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার সঙ্গে পরিবেশগত নানা কারণেও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে।

ভয়, হতাশা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ঝগড়া, চাকরিগত সমস্যা, অসুখী যৌনজীবন।

বিষন্নতা, উদ্বিগ্নতা, আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপ।

হৃদরোগ, হাঁপানি, মেনোপজসহ নানা অসুখ।

ঘুমের প্যাটার্ন চেঞ্জ হলে।

রাতের শিফটে কাজ করা।

আরামদায়ক বিছানা না হলে কিংবা নির্দিষ্ট বিছানা পরিবর্তন হলে।

নিকট-আত্মীয় মারা গেলে।

বিদেশ ভ্রমণে সময়ের পার্থক্য হলে।

করণীয়:
কী কারণে ঘুম হচ্ছে না প্রথমে তার কারণ খুুঁজে বের করতে হবে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা কিংবা মানসিক চাপ থেকে ঘুমে সমস্যা হলে সেই কারণটি দূর করতে হবে।

১.প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ুন।

২.শোয়ার ঘর কেবল ঘুমের জন্য ব্যবহার করুন। সেখানে যেন অতিরিক্ত শব্দ বা আলো না থাকে।

৩.ঘুমের আগে হালকা গরম পানির গোসল, বই পড়া, মৃদু গান, উপাসনা বা ইয়োগা সাহায্য করতে পারে। বারবার ঘড়ি দেখবেন না।

৪.জোর করে ঘুমের চেষ্টা করবেন না।২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে উঠে পড়ুন। অন্য ঘরে যান, হালকা কিছু পড়ুন ঘুম না আসা পর্যন্ত।

৫.দুপুরে ৩০ মিনিটের বেশি বিশ্রাম নেবেন না, তা তিনটার আগেই সেরে নিন।

৬.ঘুমানোর চার-ছয় ঘণ্টা আগে ভারী কাজ, ব্যায়াম এবং অ্যালকোহল, কফি, ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

৭.ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। এরপর খিদে পেলে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন,
ক্ষুধা নিয়ে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়া উচিত নয়।

সতর্কতাঃ
অনেকেই ঘুম না হলে নিজে নিজেই মাঝে মধ্যে ঘুমের ওষুধ কিনে খান। আবার অনেকেই আছেন যারা চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ খেতে বললেও ভালো ঘুম আসছে দেখে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যান। যার কোনোটাই উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। আর ঘুমের ওষুধ কখনোই একটানা ২১ দিনের বেশি খাওয়া উচিত নয়।