সর্বশেষ আপডেট

সাজাদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় উলিপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মুুুন্সিপাড়া গ্রামে জরাজীর্ণ বসতঘরে মানবেতর বসবাস করছে অসহায় সামাদ মিয়ার পরিবার। বসবাস উপযোগী ঘর নেই। আছে দুইটি ভাঙা ছাপড়াঘর। এই ঘরে শুয়ে রাতে আকাশের তারার ছোটাছুটি দেখা যায়। কখন যে ঝড়-তুফান আসে, এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পোহাতে হয় তাদের।

জানা গেছে, উলিপুর পৌরসভার মুন্সি পাড়ার মৃত নুর মোহাম্মদ এর ছেলে সামাদ মিয়া (৫৩) তার স্ত্রীসহ পরিবার একটি ভালো আশ্রয়স্থলের অভাবে বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ বসতঘরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। সামাদ মিয়া একজন অসহায় লোক। তার নিজের কোন জমিজমা নেই। ২ ছেলে বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৯) বিবাহ করে পৃথক হয়ে একই স্থানে জরাজীর্ণ বসতঘরে বসবাস করছেন। তার ঘরেও সাত বছরের একটি ছেলে সন্তান।আমিনুল রাজমিস্ত্রির যোগালির কাজ করে কোনরকম ভাবে দিন পাড় করছে। ছোট ছেলে আরমান (১৩) উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।অর্থের অভাবে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার।তবুও আরমানকে নিয়ে একবুক স্বপ্ন দেখছে তাঁরা। বড় হয়ে চাকরি করে পরিবারের দুঃখ দূর করবে।সামাদ মিয়া উলিপুর বাজারে গরু হাটিতে সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছোট একটি টেবিলে পান,সিগারেট বিক্রয় করে যে কয় টাকা পায় ও তার স্ত্রীর আয় দিয়ে কোন ভাবে চলে সংসার বাকী ৪ দিন অর্থ ও জায়গার অভাবে ব্যবসা করতে পারে না। বর্তমানে সামাদ মিয়া ও তাঁর বৃদ্ধা মা খুকি বালা (৭৩) এর বসত ঘরখানা খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। বসত ঘরের আংশিক ভাঙা পুরাতন টিনের ছাপড়াঘর, বাঁশের ভাঙা চাটাই, পুরাতন কাপড় ও ছেড়া ফাঁড়া কম্বলের বেড়া দিয়ে ঢাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্ত্রী, এক ছেলে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সামাদ মিয়ার সংসার। মা খুকি বালা(৭৩) বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। নানান রোগ বাসা বাঁধেছে তাঁর শরীরে।অর্থের অভাবে চিকিৎসা করা দূরের কথা দুই বেলা দুই মুঠো ভাতের যোগান দিতে পারছে না পরিবার। তাই অসুস্থতাজনিত কারণেও সওয়াল ভিক্ষায় বেড় হয় বৃদ্ধা খুকি বালা।সামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে সকাল-বিকাল ঝিয়ের কাজ করছে স্ত্রী আমেনা বেগম। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সন্ধ্যায় ফিরে আসেন নিজ বাড়িতে। বাড়ি তো নয়, যেন খুপরির মধ্যে বসবাস।ভাঙা ছাপড়া ঘরেই চরম আতঙ্কে রাত কাটে তাদের। কখন যে বৃষ্টি-বাতাস আসে, এমন ভয়ে নির্ঘুম রাত পোহাতে হয় তাদের। জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকতে সারাদিন পরিশ্রম করার পর রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাবে তারও উপায় নেই। কারণ বর্ষার সময় ঘরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে বাশঁ, খুটি, বিছানাসহ সব কিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তবুও জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরের বিছানায় রাতভর ছটফট করতে হয় সামাদ মিয়ার।

জরাজীর্ণ বসত ঘরের ভিতরেই (২/৩ ফিট) পাশাপাশিই আবার রান্না ঘর। বসত ঘর এবং রান্না ঘর পাশাপাশি থাকাতে আগুন থেকে যে কোন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সবসময় জীবন মৃত্যু স্বঃন্ধিক্ষনে বসবাস করেন তারা।

সামাদ মিয়ারর স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, আমরা এক গরীব অসহায় পরিবার।বসত ভিটা, জমি জমা কিছুই নেই। পেটের তাগিদে সারাদিন অপরের বাড়িতে পরিশ্রম শেষে ঘরে এসে আরামে ঘুমাব তাও পারি না। কখন যে ঝড়-বাতাসে ঘরটি ভেঙে পড়ে এ জন্য রাত জেগে থাকতে হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি দুর্যোগ সহনীয় ঘর পাওয়ার আকুতি করছি।

সামাদ মিয়া বলেন,আমি আগে দিনমজুরী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। বর্তমানে শারিরীক অসুস্থ্যতা ও অর্থের অভাবে সপ্তাহে ২ দিন উলিপুর বাজারে হাটের দিন গরু হাটিতে দুপুর ২ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসা করি।তাই দিয়ে ও আমার স্ত্রী সামান্য আয়ে দিনানিপাত করছি। অন্যর দেয়া চাতালে পুরাতন টিনের ২ টি ছাপড়াঘর তৈরি করে পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে বসবাস করিতেছি। বর্ষা কালে ঘরে পানি পড়ে বলে সারা রাত ঘরের এক কোনায় জেগে রাত কাটাতে হয় আমাদের। আরও বেশি করে অসুস্থ করে দিচ্ছে এই ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় ঠিক মত ঔষুধপত্র কেনা হয় না আমাদের। বর্তমানে ভাঙা ঝুপড়ি নিয়ে বেশ চিন্তিত। কারণ রোদ বৃষ্টি কোন মৌসুমেই ঠিক মত থাকতে পারি না। আশ্রয়স্থল যদি ঠিক না থাকে তাহলে দিন রাত পার করা খুব মুসকিল। জীবন-যাপন করার জন্য মোটামুটি ভালো আশ্রয়স্থল ও একটি বসতবাড়ী আমাদের খুব প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা চাতাল মালিক মাঈদুল ইসলাম বলেন,আমার চাতালে প্রায় ৭-৮ বছর থেকে ওই ভাঙা ঘরেই প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন তারা।শুনেছি বিভিন্ন প্রকল্প অসহায় দুঃস্থ পরিবারকে জায়গা জমিসহ ঘরবাড়ী নির্মাণ করে দেয়। সামাদ মিয়াকে ঘরবাড়ী দেয়ার জন্য ওই সমস্ত প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

পৌর প্যানেল মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, সামাদ মিয়ার এমন অবস্থা তা জানা নেই।দেখি কিছু করা যায় কিনা।