করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩০ লাখের অধিক মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই ভাইরাস। কিন্তু শুধু করোনাভাইরাস নয়, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বার্ড ফ্লুও। চলতি বছরের প্রথমের দিকে রাশিয়ার একটি পোলট্রি ফার্মে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ লাখ মুরগিকে তৎক্ষণাৎ মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শুধু মুরগির জন্য নয়, বার্ড ফ্লু মানুষের জন্যও অত্যন্ত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ভাইরাসটি পরীক্ষা করে জানা যায় এটি Avian Flu-র H5N8 স্ট্রেন, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। ইউরোপে এই ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে লাখ লাখ মুরগির। চিন্তার বিষয়, শুধু মুরগি বা পাখিদের মধ্যেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ সীমাবদ্ধ নয়, আমেরিকায় পোলট্রি ফার্মে কর্মরত বেশ কয়েকজনে শরীরে থাবা বসায় এই ভাইরাস। ইউরোপ এবং এশিয়াতে ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারির মধ্যে ৭০ লাখ পাখির মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। এর ফলে চিকেনের যোগানে ঘাটতি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক বছর সাধারণ মানুষের ৬৫ বিলিয়ন চিকেন প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে এই মড়কে চিকেনের দাম বাড়তে পারে একধাক্কায় অনেকটাই, মতামত বিশেষজ্ঞদের।


এদিকে H5N8 ভাইরাস শুধুমাত্র পাখিদের শরীরেই থাবা বসাতে পারে মনে করা হচ্ছিল এমনটাই। কিন্তু, ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ার স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট দেশের ২০০ জনে যারা পোলট্রি ফার্মের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের পরীক্ষা করা হয় এবং ৭ জনের শরীরে পাওয়া যায় এই ভাইরাস। যদিও তাঁদের মধ্যে কেউ সেভাবে অসুস্থ হয়নি। কিন্তু এই প্রথম বার্ড ফ্লুর এই স্ট্রেন মানুষের দেহে থাবা বসাল। এই নিয়ে চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা। ICAHN স্কুল অফ মেডিসিন-এর গবেষক ডা. ফ্লোরিয়ান ক্রামি জানান, Avian Flu ফ্লুর H5N1 স্ট্রেন ইতিমধ্যেই মানুষের শরীরে থাবা বসিয়েছিল। ২০১৩ সালে H7N9 স্ট্রেনে সংক্রামিত হয়েছিল ১৫০০ জন তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ৬০০ জনের। এই ভাইরাস মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় বলে দাবি করেন তিনি। যদিও বার্ড ফ্লুর এই স্ট্রেন নিয়ে চিন্তা করার মতো সময় এখনও আসেনি, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা/এইসময়