সর্বশেষ আপডেট

ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান,
সহযোগী অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মিঠু ডাকনাম, পুরো নাম ইয়াসির আরাফাত মিঠু। আমার গ্রামের জামাল ভাইয়ের ছেলে। ঢাকায় নাম করা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। হঠাৎ ফোন করে বললো-
আংকেল, কেমন আছেন?
ভালো আছি।
আংকেল আমি একটি নাটকের শুটিং করতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বললাম, করোনার মধ্যে অনুমতি নেওয়াটা কঠিন।
আমার যে শুটিং করতেই হবে। আগামী ইদেই প্রচার করতে চাই।
অনুনয় বিনয় শুনে আমি একটু চিন্তা করলাম কী করা যায়।
সহকারি প্রক্টর রহিম (রহিম ভাই)-কে ফোন করলাম। বিস্তারিত শুনে কিছুটা আশ্বস্ত করলেন।
মিঠুকে জানালাম, প্রক্টর অফিসে এসে খোঁজ নিতে। কিছু নিয়মকানুন ও কাজ আছে তা সম্পন্ন করতে হবে।
মিঠু কয়েকদিন ঘুরে সে কাজগুলি সম্পাদন করলো। শুটিংয়ের তারিখ নির্ধারিত হলো।

কদিন পরে মিঠু জানালো আগামীকাল শুটিং হবে এবং আমি সময় পেলে যেন একটু দেখে যাই।

উৎসাহ ভরে আমি পরের দিন রোকেয়া হলের সামনে শুটিং দেখতে গেলাম। করোনাকালে দুরু দুরু মনে জনগণের ভীড় থেকে দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুটিং দেখছি। ক্ষাণিক পরে মিঠু আমাকে দেখে কাছে এলো এবং সিনিয়র কয়েকজন আর্টিস্টকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো। টিভি খুললেই যাঁদের নাটক আমরা প্রাণভরে উপভোগ করি তাঁদের কয়েকজনকে কাছে পেয়ে এবং কথা বলে খুব আনন্দিত হলাম। তারপর চেয়ারে বসে নাটকের দৃশ্য ধারণ উপভোগ করতে লাগলাম।

ইদের বাকি আছে আর কয়েকদিন। মিঠুর চোখে মুখে আনন্দ ও বিষাদের ছায়া। দুশ্চিন্তায় তার মন ভার হয়ে আছে যেন। এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি আর নির্দেশনা দিয়ে সে আরও ক্লান্ত থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। আজকের মধ্যেই নাটকের শুটিং শেষ করার প্রতিজ্ঞায় সে ব্যতিব্যস্ত। জীবনের প্রথম নাটকের পরিচালক হিসেবে তার নাম লিখতে যাচ্ছে। মাত্র ২০মিনিটের ছোট টেলিফিল্ম। গল্পটা বেশ। নামি দামি অভিনেতা দিয়ে অভিনয় করাচ্ছে। ভালো ভালো ক্যামেরা ভাড়া করেছে। কিছুতেই কমতি রাখেনি। তাই মিঠু খুবই আত্মপ্রত্যয়ী। ইউটিউবে প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সুনাম কুড়াবে। মিঠুর চোখে মুখে তাই স্বপ্ন আর স্বপ্ন।

আমি খুব আগ্রহ ভরে দেখছি। ছাত্রজীবন ও শিক্ষকতা জীবন মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ২২ বছর যাবৎ অবস্থান করছি। কোনোদিন রোকেয়া হলের সামনের রাস্তার মাঝখানে বসার সুযোগ হয়নি। প্রতিদিন ঐ রাস্তায় হাজারো গাড়ি ও মানুষের ভীড়ে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, সেখানে সকাল ১১ টায় রাস্তার মাঝখানে বসে চেয়ারে বসা-কল্পনাই করা যায় না। করোনার কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হলো; শিক্ষার্থীরা নেই, জটলাও এখানে অনুপস্থিত। সেই সুবাদে সম্মুখ থেকে নাটকের শুটিং পর্যবেক্ষণ। মা’র মুখে শুনেছি, দাদা নাকি প্রসঙ্গক্রমে বলতেন, ‘পাশের বাড়িতে আগুন লেগেছে তার আলোতে রাতের খাবার আরামে খেয়ে নিলাম’। আমার অবস্থাও অনেকটা ওই রকম আর কী!

আমরা নাটক বা সিনেমা হিসেবে যা দেখি তা হলো ফিনিশ্ড প্রোডাক্ট। দৃশ্যধারণ সরাসরি না দেখলে অনেক বিষয়ই আঁচ করা যায় না। একটি দৃশ্য নেয়ার জন্য কমপক্ষে ১০/১২বার অভিনয় দেখে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। একে তো গরমের দিন, বৃষ্টি আসে আসে অবস্থা। এর মধ্যে এতবার একই দৃশ্যে বার বার অভিনেতার আগমন দেখে তাদের জন্য মায়া হচ্ছিল। নায়িকার কষ্ট দেখে মনটা আরও মায়ায় ভরে গেল।

দৃশ্য-১: ক্ষাণিক পরে মিঠু বললো, আঙ্কেল, নায়িকার ফ্রেন্ডের একটা শর্ট নিতে হবে। ড্রেস চেঞ্জ করা দরকার। এখানে তো কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন কী করি। বললাম কলাভবনের ভিতর গিয়ে পাল্টালেই হবে। কিন্তু রোকেয়া হল থেকে কলাভবন-এত তো সময় নেই। মাত্র এক সেকেন্ডের একটি শর্ট নেয়ার জন্য এত দূর যাওয়া-সময় নষ্ট হবে। তারপর ওরা নিজেরা ফিসফিস করে কিছু বললো এবং তাতে সাইড নায়িকা রাজি হয়ে গেলো। আমি দূর থেকে আন্দাজ করলাম, চতুর্দিকে কজন কাপড় দিয়ে আবৃত্ত করে রেখেছে এবং তার মধ্যেই মেয়েটি তার পোশাক পরিবর্তন করছে। উৎসুক জনতা ওদিকে উঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু নাটকের লোকজন করোনার কথা বলে তাদেরকে নিরাপদ দূরত্বে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে মেয়েটি একটি লম্বা পোশাক পরে ওখান থেকে মূলপর্বে যোগ দিলো। শর্ট নিতে যাবে এমন সময় ওদের দলের একজন বললো, এখানে তো লম্বা পোশাকের শর্ট নয়, নিতে হবে পশ্চিমা ঢংয়ের যুবতী মেয়ের ছোটখাটো পোশাকের। এতক্ষণ যারা পোশাক পরিবর্তনের কাজে যোগদান করেছিল তাদের চোখেমুখে বিরক্তের ছাপ দেখা গেলো। একজন বলেই ফেলল, আগে তাহলে একথা বলেননি কেন? এখানে এই ছোটখাটো পোশাক কীভাবে পরাবো। আর এ ধরনের পোশাক যার আনার কথা ছিল সে তো এখনও আসেনি। সবকিছু মিলে কেমন জানি একটা তালগোল পেকে গেলো।
দৃশ্য-২: ওরে বাবা রে মরলাম রে-বলে একটা ছেলে মাইক্রোবাসের পাশে চিৎকার করতে লাগলো। জনতা তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। আমিও দূর থেকে দেখছিলাম। শুটিংয়ের লোকজন ওদিকে দৌড়াচ্ছে। দর্শকের কেউ কেউ বলছে ছেলেটি দারুণ অভিনয় করছে। ওর ভবিষ্যৎ খুব ভালো। ছেলেটির পায়ের একটি অংশ মাইক্রোবাসের চাকায় নিচে পড়ে থেতলে গিয়েছে। প্রচণ্ড ব্যাথায় সে বিলাপ করছে। ড্রাইভার গাড়িটি ঘুরানোর সময় গাড়ির চাকা ওর পায়ে উঠে যায়। ড্রাইভার দ্রত নেমে ছেলেটিকে উদ্ধার করে; ততক্ষণে ওর পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে জানা গেল এটা নাটকের কোনো দৃশ্য নয়; নেহাতই দূর্ঘটনা। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দৃশ্য-৩: গরিব রিকসাওয়ালার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। বাবা দিনভর ঢাকা শহরে রিকসা চালিয়ে মেয়ের খরচের যোগান দেন। দুপুরে বাবা এসেছেন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে। মেয়ে, বাবার জন্য রান্না করে ভাত ও তরকারি টিফিনকেরিয়ারে এনেছে। মেয়ে বাপকে খাইয়ে দিচ্ছে। বাবার মুখে দিতেই সে চিৎকার করে বলছে ধুৎ ধুৎ। তারপর সে টিফিনক্যারিয়ারটি সজোরে ফেলে দেয় অনেক দূরে। মেয়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়। দর্শক ফিস ফিস করে বলছে মেয়েটি এত কষ্ট করে খাওয়াচ্ছে আর বুড়ো শালায় এই কাজ করলো। পরে জানা গেলো খাওয়ার পরের অংশটি নাটকের দৃশ্য নয়। যখনই ভাত মুখে দিয়েছে তখনই পচা গন্ধ এসেছে এবং সিনিয়র আর্টিস্ট রাগে ও পেট খারাপের ভয়ে তা ফেলে দিয়েছে। এখানেও শুটিংয়ের ছেদ পড়ল।

দৃশ্য-৪: রিকসাওয়ালা একটি ছেলেকে নিয়ে রিকসা চালাচ্ছিল। ছেলেটি হঠাৎ রাস্তায় নেমে যায় এবং ভাড়া চাইতেই কষিয়ে বৃদ্ধ রিকসাওয়ালার গালে একটা চড় মেরে বসে। হঠাৎ কয়েকজন রিকসাওয়ালা সেই দৃশ্য দেখে এবং দৌড়িয়ে ওই ছেলেকে ঝাপটিয়ে ধরে। গরিব মানুষ বলে আমাদের কোনো দাম নেই। আপনি ওনাকে চড় মারলেন কেন-এই বলে ছেলেটিকে তারা টানা হ্যাচড়া শুরু করে দেয়। টিমের লোকজন গিয়ে রিকসাওয়ালাদেরকে বোঝানোর পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এটা যে নাটকের দৃশ্য তখন তারা বুঝতে পারে। ততক্ষণে ঘণ্টা খানেক লাপাত্তা।

কিছুক্ষণ পরে ক্লান্ত শ্রান্ত, আশাহত মিঠু আমার কাছে এসে বললো, আঙ্কেল আজ সারাদিনটাই তো মাটি হয়ে গেলো। বিকেল হয়ে যাচ্ছে সারাদিনে দশভাগের একভাগ কাজও করতে পারিনি। বললাম, মিঠু আমি যাই। পরে কথা হবে। তুমি কাজ চালিয়ে যাও।

রাতে মিঠুনকে ফোন দিলাম। জানতে চাইলাম কাজের অগ্রগতি। শুটিং কি শেষ। মিঠুর ভারি কণ্ঠ। আঙ্কেল, আমার নাটকটি ইদে আসবে না। অনেক কাজ বাকি। সবাই ব্যস্ত, নায়িক-নায়িকারা ইদের আগে সময় দিতে পারবেন না। আগামী দিনের জন্য আবার অপেক্ষা করতে হবে।

আমি বোঝালাম। মিঠু, এটা তোমার জন্য টানিং পয়েন্ট হতে পারে। আরও সময় নিয়ে স্ক্রিপ্ট রেডি করো এবং পরিচালনার তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিক সম্পর্কিত কিছু বইপত্র দেখো। একই সাথে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত বিখ্যাত ছবি দেখো এবং পরিচালকদের পরিচালক হওয়ার গল্প জানো। তাহলে তুমি নিজেকে শুধরাতে পারবে। চলচ্চিত্রের জগতে প্রতিকূলতার শেষ নেই। এখানে আগমন যেমন কঠিন তার চাইতে বেশি কঠিন টিকে থাকা। টিকে থাকতে হলে দুটো জিনিস চাই-যোগ্যতা ও ধৈর্য্য। হুমায়ুন ফরিদী জিগাতলার বাসা থেকে হেঁটে হেঁটে প্রতিদিন টিএসসিতে রিহার্সেল করতেন প্রথম জীবনে। কষ্ট করেছিলেন বলেই একজন হুমায়ুন ফরিদী হয়ে ওঠতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশে দ্বিতীয় হুমায়ুন ফরিদীর জন্ম হয়নি এখনো। নাটক, সিনেমা কয়েক দশক ধরে দাপানো তুখোড় অভিনেতা এটি এম শামসুজ্জামান এক সাক্ষাৎকারে তাঁর এই জগতে আসার গল্পটা এরকম-

এটি এম শামসুজ্জামানকে একজন পরামর্শ দিলেন তোমার যেহেতু অভিনয় ভালো একজন নামকরা পরিচালকের সাথে তাঁকে দেখা করতে। কথামতো তাঁর বাসায় গেলেন তিনি। পরিচালক তাঁর কথা শুনে নাটক করতে চাও? একটি পাণ্ডুলিপি দিয়ে বললেন, ধরো, এটি দুশোবার লিখে নিয়ে আসবে আগামী পনের দিনের মধ্যে। এটিএম তো থ। এত লেখা, কীভাবে সম্ভব। কয়েক মাসের কাজ মাত্র পনের দিনে। কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারলেন না। লেখা নিয়ে চলে এলেন বাসায়। পনের দিন পরে আবার হাজির হলেন ওই পরিচালকের বাসায়। তিনি দেখে বললেন একি লিখেছো। হাতের লেখা তো বিচ্ছিরি। আবার লিখে নিয়ে এসো। আবার দুসপ্তাহ পরে দেখা করলে তিনি বললেন, না হয়নি। তোমাকে বলেছি সুন্দর করে লিখে নিয়ে আসতে। যাও নিয়ে যাও। আবার ভালো করে লিখে নিয়ে এসো। আদেশ শিরোধার্য। না করে উপায় নেই। তাঁকে যে অভিনেতা হতেই হবে। বাধ্য হয়েই ভীরু ও আশাহত হৃদয়ে ফিরলেন আবার ওই পরিচালকের বাসায়। পরিচালকের মুখে এবার হাসি। আগের পাণ্ডুলিপির অনুলিপিও তিনি বের করলেন। বললেন হাসিমুখে, শুনো তোমার অভিনেতা হওয়ার সঙ্গে এই লেখার সংযোগ নেই হয়তো ভাবছিলে। কিন্তু কথাটা একদম ঠিক না। এই জগতে ভালো করতে হলে ধৈর্য থাকতে হবে। তুমি পরীক্ষায় পাস করেছো। তুমি একদিন বড়ো অভিনেতা হবে। এটিএম চোখের পানি সংবরণ করতে পারলেন না। জড়িয়ে ধরলেন পরিচালকের পা। আবেগ কণ্ঠে বললেন, স্যার দোয়া করবেন আমার জন্য। তারপরের গল্প সবারই জানা।

বিশ শতকের দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা সত্যজিৎ রায়। শৈশবে বাবা সুকুমার রায়, কৈশোরে আর সদ্য যৌবনে সত্যজিতের নায়কের সিংহাসনে ছিলেন বেঠোফেন। সুতরাং বেঠোফেনের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত যে পূর্ণ বধির অবস্থায় রচিত, এ কথা তরুণ বয়স থেকেই জানা ছিল সত্যজিতের। তার কাছে মনে হয়েছে বেঠোফেনের বধিরতা একদিকে যেমন ধ্বংস অন্যদিকে তেমনি সৃষ্টি। বেঠোফেন ক্ষীপ্র ব্যস্ততায় স্বরলিপি লিখতেন যেন একটু হলেই সুরের নতুন কোনো আইডিয়া পালিয়ে যায়। সত্যজিৎও তা-ই করতেন।

বেঠোফেনের পুরোনাম লুডভিগ ফন বেঠোফেন জার্মান সুরকার এবং পিয়ানো বাদক। তাঁকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুরকারদের একজন মনে করা হয়। এক মস্তবড় অনুষ্ঠানে বেঠোফেন পিয়ানো বাজিয়ে দর্শককে অপার মুগ্ধতার আবেশে তৃপ্ত করে তোলেন। অনুষ্ঠান শেষে হাজার হাজার পাগলপ্রায় দর্শক-শ্রোতা তাঁর অটোগ্রাফ ও ছবি তোলার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠলেন। বয়স্ক এক রমণী স্টেজের দূর থেকে বলছেন, বেেেঠোফেন তোমাকে দেখলে আমার হিংসা হয়। তুমি এত বিখ্যাত, জগৎজোড়া তোমার নাম। তোমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য কত মানুষ যে লাইন দেয়। আমার মনে হয় আমি যদি তোমার মতো এত বিখ্যাত হতে পারতাম। বেঠোফেন বললেন, শুনুন, ভদ্র মহিলা, আপনি আমার চাইতেও বেশি বিখ্যাত হতে পারবেন। গত চল্লিশ বছরে রাত দিন পরিশ্রম করে আমি বর্তমান অবস্থায় আসতে সক্ষম হয়েছি। আমার মনে হয় আপনি ত্রিশ বছর পরিশ্রম করলেই আমার চাইতে বেশি দশর্কপ্রিয়তা পাবেন।

আমাদের দেশের অনেকেই ফেসবুকের কল্যাণে নিজের ফেসকে দেখানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু যে কাজে সে ফেস দেখাচ্ছে আদৌ ওই কাজে তাঁর জ্ঞান-গরিমা আছে কিনা তা পরিমাপের জ্ঞানও তার নেই। জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এই অধপতনের জন্য এসব মানুষের ভূমিকা বেশি। টাকা হলে দামি বাড়ি ও গাড়ি কেনা যায়-বড়লোক হওয়া যায়। কিন্তু ভালো লেখক, পরিচালক হওয়া যায় না। আমরা নিজেদেরকে চিনতে পারি না বলেই আমাদের পক্ষে সব করা সম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ আইনস্টাইনকে যখন ইসরাইল রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল তিনি সহজ ভাষায় বলেছিলেন, রাজনীতির আমি কিছুই বুঝি না। আমার কাছে সমীকরণের গুরুত্ব আছে, রাজনীতির নয়।

মিঠু এতক্ষণে আমার কথা হয় তো বুঝতে পেরেছে। ও বললো, আঙ্কেল ঠিকই বলেছেন। আমি সাধ্যমতো চেষ্ট করবো ভালো কিছু করার। আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হলাম এবং ভবিষ্যতের প্রতীক্ষায় রইলাম কী হয়, কেমন হয় তা দেখার জন্য।