বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং মাধ্যম ইউটিউব। বাংলাদেশের অনেকেই আছেন এ প্ল্যাটফর্মে ভিডিও তৈরি করেন।

চট্টগ্রামের ছেলে মেহেদী হাসান সাকিল কিশোর বয়সেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং মাধ্যম ইউটিউবে কনটেন্ট নির্মাণ করছে।

২০১৮ সালে এই কিশোর ইউটিউবে কনটেন্ট বানানো শুরু করে। মেহেদি হাসান সাকিল বলেন’বন্ধুর সাথে মজা করে মোবাইলের একটা ভিডিও ইডিটিং সফর্টওয়্যার দিয়ে ইডিটিং করি তখন অতোটা প্রফোশনাল ছিল নাহ। একদিন হঠাৎ করে আমার প্রিয় ইউটিউবার অফ্রিদি ভাইয়ের ভ্লগ চোখে পরে তখন তার চ্যানেলে আপলোড করা ভ্লগ গুলো আমার ভালো লাগে। তখন হঠাৎ করেই আমার ইচ্ছে হলো এই ধরনের ভ্লগ বানানোর। কিন্তুু চিন্তা করলাম আমি কী পারবো বানাতে? মনে মনে ভাবলাম একটু চেষ্টা করেই দেখি। একদিন ফোন দিয়ে শুরু করলাম বানাতে। হ্যা আমি প্রথম বারেই সফল হয়েছি এটি বানাতে। এর পর আস্তে আস্তে ইউটিউব নিয়ে চিন্তা করতে থাকি। তারপর একদিন এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে চিটাগং ইউটিউব কমিউনিটিতে যুক্ত হলাম। এর পর আস্তে আস্তে সবার সাথে পরিচয়। সবাই সাপোর্ট করতে থাকে। তখন মেইবি আমিই ছিলাম চট্টগ্রামের সবচেয়ে ছোট ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। ছোট বয়স থেকে ভিন্ন কিছু করতে দেখে সবাই সাপোর্ট আর ভালোবাসা দেখিয়েছে অনুপ্রেরনা জাগিয়েছে তাই আজকে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আর আশাকরছি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম তৈরী করে নিব। যদি সকলে আমার পাশে থাকে আমার বিশ্বাস আমি একদিন সফল হবো।

‘আমার ভালো লাগাটা কনটেন্ট তৈরি করতে গেলে খুঁজেই পাই’– আসলে আমি ব্যাক্তিগত জীবনে ছোটবেলা থেকে অনেক চঞ্চল ছিলাম। তাই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে বা পাবলিক প্লেসে গিয়ে ক্যামরার সামনে কথা বলতে তেমন একটা অস্বস্তি অনুভব হয় না। ক্যামরার সামনে খুব সাধারণ ভাবে কথা বলতে পারি। আর ভ্লগ বানাতে আমার খুব ভালো লাগে। আর আমি যেহেতু ভ্লগিং করে থাকি আমাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশতে হয় আর মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে এই ব্যাপারটা মানুষের সাথে সাধারণ ভাবে মিলেমিশে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে। তাই আমার ভালোলাগাটা কনটেন্ট তৈরি করতে গেলে খুজে পাই। আর কষ্ট করে যখন ভ্লগ শুট শেষ করে সেটি ইডিটিং করে যে কষ্টটা তা ইউটিউবে আপলোড করার পর মানুষের ভালোভালো কমেন্ট গুলো পড়ে কষ্টগুলো দূর হয়ে যায়। তাই কন্টেন্ট বানিয়ে মনের শান্তিটা খুজে পাই। এক কথায় কনটেন্ট তৈরি করার মজাটাই অসাধারণ।

প্রশ্ন: এ পথচলায় পরিবার থেকে কেমন সার্পোট পান? উত্তরে: তিনি বলেন ‘ইউটিউবে যখন আমি প্রথম প্রথম কন্টেন্ট তৈরি করা শুরু করি তখন আমার পরিবারের তেমন একটা কেউ ব্যাপারটা ভালো ভাবে নেই নি। কিন্তুু সময়ের সাথে সাথে নিজের পরিবর্তন দেখে পরিবার এখন অতিতের চেয়ে বর্তমানে অনেক সাপোর্ট করে। অতিতের থেকে বর্তমানে কম বেশি ভালোই সার্পোট পাচ্ছি।

বর্তমানে ভিডিও বানাতে সাপোর্ট করে হচ্ছে আমার সাবস্ক্রাইবাররাই। একটু সক্রিয়তা কম দেখলেই মেসেজ করে বলে ভাই ভিডিও আপলোড দিচ্ছেন না কেন? নতুন ভিডিও কবে পাবো?। মাঝে মাঝে এরাই পরিবারের আপন মানুষ গুলোর মতো শাষন করে বলে আপনি অলস হয়ে গেছেন আগের মতো ভ্লগ আপলোড দেন নাহ। এই বিষয় গুলো আমার অনেক ভালো লাগে এক কথায় বলতে গেলে। ওনারাই আমার ভিডিও বানাতে বেশি সাপোর্ট করে। ভালো ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরনা জাগিয়ে থাকা তারা।

কিশোর সাকিলের বিশ্বাস সে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো স্থান করে নিতে পারবে।

ইউটিউবে সাকিল দেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি’র সাথে ও ভ্লগ তৈরি করেছে।আর এস ফাহিম চৌধুরী আর ফাহিম শাহারিয়ারদের মতো জনপ্রিয় ইউটিউবারদের সাথে শাকিল ভিডিও বানিয়েছে।