সর্বশেষ আপডেট

নাজমুল হক মুন্না :
: যারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে মা ইলিশ নিধন করবে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হবে একথা জানান বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলম।

তিনি আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বানারীপাড়া-উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলেন। কিন্ত তা উপেক্ষা করেও গোপনে অভিযানের ফাকে উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারিভাবে দেশব্যাপী মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু হয়। সে অনুযায়ী উপজেলার নদী বেষ্টিত পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নে ১ হাজার ২ শত ৯২ টি জেলে পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়।

কিন্তু নিষিদ্ধ সময় ছাড়া সন্ধ্যা নদীতে ২ শতাধিক পরিবার মৎস্য শিকার করলেও মা ইলিশ রক্ষা অভিজানের সময়ে হাজার হাজার জেলে অবৈধভাবে মা ইলিশ নিধন করছে। অভিযান শুরুর প্রথম থেকেই প্রচার প্রচারণা বিহীন ঢিলেঢালাভাবে চলছে মৎস্য অভিযান। বরাদ্দ কম হওয়াকে দুঃসছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে জেলে পাড়ায় এক নতুন উৎসহের আমেজ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জেলেদের আত্মীয় স্বজন এসে এই মহোৎবে এসে স্বামিল হচ্ছেন। এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী বিভিন্ন ফ্রিজ ও বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষন করছেন। পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে ফোন দিয়ে গোপনে মাছ পৌছে দিচ্ছেন তারা।

রাতের আধারে জেলে পল্লিতে মাছ নিয়ে চলছে হুরোহরি। তবে মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ যৌথ অভিযানে যায় তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৌছে যায় জেলেদের কানে কানে। জাল ফেলে দ্রুত বিভিন্ন ছোট খাল ও ঝোপঝারে অবস্থান নেয়। চলে যাওয়ার সাথে সাথে পুনঃরায় মেতে উঠে মৎস্য শিকারে।

জেলেদের প্রায় ডিঙি নৌকা মেশিন চালিত, এ কারণে অভিযানে তাদেরকে আটক করতে পারছেন না। কতিপয় দালাল বিভিন্ন জেলেদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে তাদের সুযোগ সুবিধা করে দিচ্ছেন। আর এ সকল কর্মকান্ডের সাথে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরাও জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বানারীপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (উজিরপুর অতিঃ দায়িত্বে) মোঃ জামাল হোসেন বিটিসি নিউজ এর প্রতিবেদককে জানান, নদী বেষ্টিত দুইটি উপজেলায় একত্রে অভিযান পরিচালনা করা এবং মাত্র ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে ২২ দিনের অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তারপরেও টিম আকারে স্প্রিড বোর্ড নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। স্থানীয়রা এ অভিযান আরো কঠোর করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।