তানজিল আহমেদ রনি

মোছাঃ ঝুমা খাতুন (২৮), পিতা- মোঃ কামরুল হাসান, সাং-ফার্মপাড়া, থানা ও জেলা-চুয়াডাঙ্গা এর সাথে অনুমান ০৮ বছর পূর্বে মোঃ শাহিন (৩০), পিতা-মোঃ ফজলু, সাং-কোরিয়াপাড়া দৌলদিয়াড়, থানা ও জেলা-চুয়াডাঙ্গা এর সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের সংসার জীবনে ১। মোছাঃ সাইবা (০৩) ও ২। আবু সাইফ (০১) নামের ফুটফুটে দুইটি সন্তান রয়েছে।

বিয়ের কয়েক বছর পর হতে বিভিন্ন বিষয়ে মোঃ শাহিন তার স্ত্রী ঝুমা খাতুনের সাথে পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে শাহিন ঝুমা খাতুনকে শরিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। শাহিন ও তার পরিবারের লোকজনের অত্যাচারে ঝুমা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে ঝুমার মা তুলি খাতুন ঝুমা ও তার সন্তানদেরকে তার বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঝুমা পুনরায় তার স্বামীর বাড়ীতে যায়। এবার ঝুমার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন ঝুমাকে আবার অত্যাচার শুরু করলে ঝুমা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তখন ঝুমার প্রতিবেশীরা তার বাবা মাকে খবর দিলে তারা ঝুমাকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতাল চুয়াডাঙ্গায় ভর্তি করে। ঘটনার পর থেকে শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন ঝুমার কোন খোঁজ খবর নেয় না। ঝুমা খাতুন ও তার মা বিভিন্ন জায়গায় তার সমস্যার সমাধান চেয়ে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান না পেয়ে। অবশেষে সংসার ফিরে পাওয়ার জন্য মান্যবর পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা মহোদয়ের নিকট আসেন।

পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা মহোদয় উক্ত বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তার কার্যালয়ে অবস্থিত “উইমেন সাপোর্ট সেন্টার” এর দায়িত্ব প্রাপ্ত এএসআই (নিরস্ত্র) মিতা রানী কে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উভয় পক্ষকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির করেন। পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় মোঃ শাহিন তার স্ত্রী মোছাঃ ঝুমা খাতুনকে বাড়ীতে ফিরিয়ে নিয়ে পুনরায় সংসার করতে ও সন্তানদের ভরণ পোষন দিতে সম্মত হয়। অবশেষে পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর হস্তক্ষেপে মোছাঃ ঝুমা খাতুন ফিরে পেল তার সুখের সংসার ও সাইবা ও সাইফ ফিরে পেল পিতৃ স্নেহ।