আগামীকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালীতে দেশের সবচেয়ে বড় কোভিড হাসপাতাল উদ্বোধন হতে চলেছে। এক হাজার বেডের এ হাসপাতালের নাম দেয়া হয়েছে ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল’। এখানে ১০০ শয্যার আইসিইউ এবং ১১২টি এইচডিইউ স্থাপন করা হয়েছে। এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল। এছাড়া রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। হাসপাতালে এখন চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। কাল উদ্বোধনের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা দেয়া শুরু হবে এখানে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট আয়তনের ভবনটি দীর্ঘদিন ফাঁকা ছিল। গত বছর ৮ মার্চ মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিলে জুনের মাঝামাঝি সময়ে আইসোলেশন সেন্টার এবং বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ল্যাব হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফ এবং ওষুধ, সরঞ্জামের ব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে শতাধিক চিকিৎসক ও দুই শতাধিক নার্স কাজে যোগ দিয়েছেন। বাকিরা শনিবারের (আজ) মধ্যে কাজে যোগ দেবেন। তবে হাসপাতালটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মহাখালী কাঁচাবাজারের জন্য নির্মিত ছয় তলা ভবনটিতে ওই হাসপাতাল স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে জরুরি বিভাগ। এ বিভাগে ৫০টি শয্যা রয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলার দোকানগুলোতে দুটি করে শয্যা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি ফ্লোরের ফাঁকা জায়গায় কাঁচ দিয়ে বড় একটি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখভাল করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার (আজ) হাসপাতালটি উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। আশা করি রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি উদ্বোধন করতে পারব। তবে এ হাসপাতালে আপাতত শুধু কভিড চিকিৎসা দেয়া হবে। এখানে কোনো অপারেশন করা হবে না। অনেক কভিড রোগীর ডায়ালাইসিস করা লাগে। তাদের জন্য আইসিইউ বিভাগে চারটি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এছাড়া পর্যাপ্ত জনবল এবং ওষুধ ছাড়া কীভাবে রোববার হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আশা করি শনিবারের মধ্যে পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধ পাব। ইতোমধ্যে যে পরিমাণ জনবল পেয়েছি, তাদের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করা হচ্ছে। তাদের নিজ নিজ কাজ বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন।’