সর্বশেষ আপডেট

শুক্রবার ভোর রাত ২টার একটু পর ঢাকায় পা রাখেন সাকিব আল হাসান। আর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে দেখা গেল গুলশানে একটি সুপারশপ উদ্বোধন করতে। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোয়ারেন্টিন বিষয়ক বিধি ভেঙেছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বর্তমানে সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করলেন সাকিবের এই কাণ্ডে।

এই আয়োজনে স্বাভাবিকভাবেই সাকিবকে ঘিরে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। তাদের অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। গায়ে গা ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককেই। লোকের স্রেই স্রোত ঠেলেই ফিতা কেটে দোকান উদ্বোধন করেন সাকিব। অনেক মানুষের সংস্পর্শে তাকে আসতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের যেসব ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেখানে সাকিবকেও এক পর্যায়ে দেখা গেছে মাস্ক খোলা অবস্থায়।

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় প্রতিবারই। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান জানালেন, সাকিবের এই ঘটনায় বিসিবির বলার মতো কিছু নেই।

এর আগে বিসিবির বিদেশি কোচরা যখন নিজ নিজ দেশ থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশে, নিয়ম মেনেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তারা। কয়েকদিন কোয়ারেন্টিনে থেকে কোভিড পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অনুমতি নিয়ে তারা অনুশীলনে যোগ দিতে পেরেছিলেন।

সাকিবের জন্যও এবার এই ব্যবস্থা করে রেখেছিল বিসিবি। আগামী সোমবার তার ফিটনেস পরীক্ষা হওয়ার কথা মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। তার আগ পর্যন্ত তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফেরার ১০ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই তিনি যোগ দেন এই অনুষ্ঠানে। এই সময়ের মধ্যে কোভিড পরীক্ষা করিয়ে ফল পাওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই।

গত সেপ্টেম্বরে যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছিলেন সাকিব, তখনও শুরুতে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তিনি। পরে পরীক্ষা করিয়ে নেগেটিভ হয়ে বিকেএসপিতে অনুশীলন করেন। এবার দেখা গেল ব্যতিক্রম।