সর্বশেষ আপডেট

ফয়সাল আহাম্মেদ আবদুল্লাহ

নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর হাতে স্ত্রী-বাড়িওয়ালাসহ ৩ জন খুন হয়েছে।

পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহের জেরে ভাড়া বাড়িতে স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছিলেন বাদল মিয়া নামের এক ব্যক্তি। পরে এই দম্পতির ছেলে সোহাগ বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। স্ত্রীকে মারধরে বাধা পেয়ে বাদল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় ওই চারজনকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। নৃশংস এ হামলায় মুহূর্তেই মারা যান তিনজন। গতকাল রোববার ভোরে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুমরাদী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি বাদল মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪০), তাজুল ইসলাম (৫৫) ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)। শিবপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ৮/৯ বছর আগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি বাদল মিয়া শিবপুরের দুলালপুর এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা নাজমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা কুমরাদী গ্রামের তাজুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্ত্রী নাজমা বেগম ও স্বামী বাদল মিয়ার মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বামী বাদল স্ত্রী নাজমা বেগম ও তার আগের সংসারের এক ছেলে সন্তানকে কুপিয়ে আহত করে। চিৎকার শুনে বাড়ির মালিক তাজুল ইসলাম, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে কুলসুম বেগম এগিয়ে গেলে তাদেরকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমা ও মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পথে মারা যায় বাড়ি মালিক তাজুল ইসলাম।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত স্বামী কাঠমিস্ত্রি বাদল মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত আবুল কালাম বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্বামী বাদল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।