নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে বিস্ফোরণে তিন মাসের শিশুসহ দুই পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস বলছে, গ্যাসের চুলার লিকেজে জমে থাকা গ্যাস থেকে আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে মো. আল আমিনের মালিকানাধীন ভবনটির তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ওই ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষের পুরো দেয়াল উড়ে গেছে এবং রান্নাঘর ও বাথরুমের দুটি দেয়াল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের দেয়াল, জানালা ও রুমের থাই ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফ্ল্যাট ও পাশের ভবনের লোকজন আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। এই ঘটনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।


বিস্ফোরণে দগ্ধ লোকজনের মধ্যে শিশুসহ পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি দগ্ধরা হলেন—   মো. হাবিবুর (৪০), তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে লিমন (১৭), মেয়ে মিম (১৮), তিন মাসের শিশু মাহিরা। এছাড়া ছয়জন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মো. সোনাহার (৪০), তাঁর স্ত্রী শান্তি আক্তার (৩০), ছেলে সামিউল (২৫), পুত্রবধূ মনোয়ারা (২২) ও সাথী (২৫)। অপর একজনের নাম জানা যায়নি। আহত লোকজনের বেশির ভাগই পোশাক কারখানার শ্রমিক।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা বা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমা ছিল, যা আগুনের সংস্পর্শে পেয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে। তবুও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।