সর্বশেষ আপডেট

প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার আগে ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করে বিদায় ভাষণ দিলেন ট্রাম্প। বিদায়-ভাষণে তিনি বললেন, যা করার জন্য এসেছিলাম, তা করে দেখিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ”আমায় কঠিন লড়াই করতে হয়েছে. আর সেটা করার জন্যই আপনারা আমাকে পাঠিয়েছিলেন।”

আজ বুধবার জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার নেবেন। ট্রাম্প হয়ে যাবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এখনো যে তাঁর হার ও বাইডেনের জয় মেনে নিতে পেরেছেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

ভোটের ফলাফল বদল করার দাবি নিয়ে ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, তার ড্যামেজ কন্ট্রোল এখনো হয়নি। গত দুই সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের টিমকে ড্যামেজ কন্ট্রোলে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ভিডিওতে ট্রাম্প নিজেও ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, ”অ্যামেরিকায় আমরা গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করি। রাজনৈতিক সহিংসতা তার উপর আঘাত।”

প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্প ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। তিনিই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাঁর বিরুদ্ধে দুই বার ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে অনুমোদিত হয়েছে। এবার তা সেনেটে গেছে। ট্রাম্প দায়িত্ব ছাড়ার পর সেনেট সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে ও ভোটাভুটি হবে। সেনেটে প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তিনি আর কখনো প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারবেন না।

করোনা নিয়ে তিনি কড়া ব্যবস্থা নেননি এমন অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে যেমন রয়েছে তেমনি অর্থনৈতিক অবস্থা বেহাল হয়েছে। কর্মহীনদের সংখ্যা বেড়েছে। মাত্র ৩৪ শতাংশ অ্যাপ্রুভাল রেটিং নিয়ে তিনি হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিচ্ছেন। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, ”আমাদের কর্মসূচি দক্ষিণ বা বামপন্থী ছিল না, রিপাবলিকান অথবা ডেমোক্র্যাটও নয়, এটা ছিল দেশের ভালো করার নীতি, পুরো দেশের ভালো করা।” তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিনি তার ভাষণে একবারের জন্যও বাইডেনের নাম নেননি তিনি।

হোয়াইট হাউস থেকে বিদায়ী দিনে অনেকে তার ব্যর্থতার সমালোচনা করলেও তিনি নিজের গুনগান করতে ভোলেননি, তার আমলে অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি কর ছাড় দেয়ার দাবিও করেছেন তিনি। ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অনুপস্থিতি অনেকটা নিশ্চিত। তার এই অনুপস্থিতি ১৫২ বছরের রেকর্ড ভাঙছে তবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকছেন বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।