সর্বশেষ আপডেট

রাখাইনে তাদের নিজ ভূখণ্ডে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বেইজিং। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তারা (চীন) এখান থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার তিন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে আরও একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করার পরিকল্পনা করছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতকালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন ‘আমরা এটিকে (ত্রিপক্ষীয় বৈঠক) স্বাগত জানাব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, চীনের মধ্যস্থতায় প্রথম ত্রিপক্ষীয় সভা নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ড. মোমেন বলেন, চীনা দূত তাকে জানিয়েছেন যে, বেইজিংয়ে পরবর্তী ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করার বিষয়টি নিয়ে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশের এক নম্বর লক্ষ্য হচ্ছে রাখাইন প্রদেশে তাদের নিজ ভূখন্ডে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দেখা। তারা (রোহিঙ্গারা) আমাদের সমাজে মিশবে এটা আমরা চাই না। তাদেরকে অবশ্যই তাদের দেশে (মিয়ানমার) ফিরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, চীনা দূত ঢাকার অবস্থানের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেছেন, তারাও বিশ্বাস করেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এই সংকট সমাধানের এক নম্বর বিষয়। রোববারের বৈঠকে চীনা দূত উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ থেকে তাদের নিজ ভূখ- মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ফেরত পাঠানো এখনো পর্যন্ত শুরুই হয়নি। ড. মোমেন কক্সবাজার ক্যাম্পে বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে আটজন রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ঢাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হলে রোহিঙ্গারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে রোহিঙ্গা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মাদক চোরাচালানে রোহিঙ্গাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিবিরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বাড়ছে। ড. মোমেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েনের বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে ঢাকার উদ্বেগও জানান। মন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা এবং তাদের জীবিকার উন্নতি এই সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে এর একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের বেশিরভাগ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানের পর সেখানে পৌঁছেছিল। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নির্মূলকরণের জলজ্যান্ত উদাহরণ’ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলেও গত তিন বছরে একজন রোহিঙ্গাও দেশে ফিরে যায়নি। সূত্র/বাসস