মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ সফল কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও অঞ্চলে একযোগে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

করোনা সংক্রমনের সংখ্যা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসছে না। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও যে চিত্রটা সামনে আসছে, তাতে গোষ্ঠী সংক্রমনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে এই গোষ্ঠী সংক্রমণ এর ক্ষেত্রে শিশুদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন আগে যেমনটা ভাবা হচ্ছিল তেমনটা নয়। শিশু কিংবা অল্প বয়স্কদের মাধ্যমেই নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। আর তাতেই মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্করা। জার্নাল অফ পেডিয়াট্রিক্স পত্রিকায় এই সংক্রান্ত সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আমেরিকার মাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে গবেষকরা জানিয়েছেন, ১৯২ দুজনের ওপরেই সমীক্ষা চালানো হয়েছে যাদের বয়স ১৬ থেকে ২২।

এই সমীক্ষার প্রধান গবেষক লয়েল ওয়ংকার বলেন, সংক্রমিত হওয়ার প্রথম দুদিন শিশুদের শরীরে ভাইরাস যে পরিমাণে থাকছে তা চমকে দেওয়ার মতো। ভাইরাসের উপস্থিতিতে এত বেশি পরিমাণ থাকবে তা আশা করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য অনেক প্রোটেকশনে নেওয়া হচ্ছে,, অথচ তার থেকে অনেক বেশি ভাইরাস আছে এমন একটি শিশু সুস্থ ভাবে চলাফেরা করছে, ফলে তার থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা অনেক বেশি।

ভবিষ্যতে স্কুল বা ডে কেয়ার সেন্টার খোলা যাবে কি না তার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চলছে। এই প্রসঙ্গে আর এক চিকিৎসক আলেসিও ফাসানো জানিয়েছেন, শিশুরা এই ভাইরাস থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন এই অতিমারীর সময়ে মূলত উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তাই বয়স্করাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে উপসর্গ না থাকলেও শিশুদের মধ্যে করণা আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা এমন কিছু কম নয়।

তবে আশার বাণী হল সম্প্রতি রাশিয়া এবং চীন সফল ভ্যাক্সিন তৈরির তথ্য জানিয়েছে। তাদের এই ভ্যাক্সিন যদি করোনা প্রতিরোধে সক্ষম হয় তবে বিশ্ব এই মহামারি থেকে মুক্তি পাবে আশা করা যায়।