সর্বশেষ আপডেট

সাইনাস দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের এই অঙ্গ মূলত বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। নাকের হাড় বাঁকা থাকলে এই সমস্যা হয়। আবার অ্যালার্জির কারণেও সাইনোসাইটিস হয়। এক্স-রে করলে সাইনাসের অঞ্চলটি ঘোলাটে দেখালেই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন এই সমস্যা। এই ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে মাথাব্যথা মানেই সাইনুসাইটিস নয়। সাইনুসাইটিসের ব্যথাটা একটু আলাদা ধরনের। অন্যান্য ব্যথার থেকে সহজেই আলাদা করা যায় সাইনোসাইটিসকে।

সাইনোসাইটিস (সাইনাস) এর উপসর্গ – Symptoms of Sinusitis
সমস্ত ধরণের সাইনুসাইটিস একই ধরণের লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখায়। সিআরএস থাকা ব্যক্তিদের সাধারণতঃ অনেক কম তীব্রতার উপসর্গ থাকে কিন্তু মুখের পেশীগুলিতে ব্যথা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, গন্ধের অনুভূতিতে গোলমাল, কাশি, এবং গলায় অনবরত জ্বলুনি থাকে।

সাইনুসাইটিস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে ঘন ঘন দেখা উপসর্গগুলি হল নিম্নরূপঃ

জ্বর।

কাশি, যা রাতে আরও খারাপ হয়।

সামনের দিকে (কপাল) মাথাব্যথা।

দাঁতে ব্যথা।

নাকের বন্ধ অবস্থা।

নাক থেকে সাদা, হলুদ বা সবুজ ধারা বার হওয়া।

স্বাদ এবং গন্ধের অনুভূতির হ্রাস।

চোখ, নাক, গাল, এবং কপালের বিভিন্ন অংশে বেদনা এবং স্ফীতি (ফোলা)।

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ।

সাইনুসাইটিস-এর অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছেঃ

বমি বমি ভাব।

অত্যধিক ক্লান্তি বা অবসাদের একটা অনুভূতি।

বুকে মাঝারি থেকে গুরুতর অস্বস্তি।

ক্ষুধায় হ্রাস বা ক্ষুধা না হওয়া।

উপরের চোয়ালে ব্যথা। (আরও পড়তে থাকুন – চোয়াল ব্যথার কারণসমূহ এবং চিকিৎসা)

কান ব্যথা।

সাইনুসাইটিসকে রাইনাইটিস-এর সঙ্গে প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়, যা হচ্ছে একটা অবস্থা যাতে শুধুমাত্র নাসিকাগত পথগুলি জড়িত থাকে। এটা নাসিকাগত চুলকানি এবং প্রদাহ, সর্দি, অবসাদ, এবং নাসিকাগত বাধার মত উপসর্গগুলি ঘটায়। এটা অ্যালার্জি অথবা ঠাণ্ডার কারণেও ঘটতে পারে।

সাইনোসাইটিস (সাইনাস) এর চিকিৎসা – Treatment of Sinusitis
একটা ভাল গুণমানসম্পন্ন জীবনযাপনের জন্য সাইনুসাইটিস-এর জন্য সঠিক চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ। সাইনুসাইটিস-এর জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি হচ্ছে নিম্নরূপঃ

১.অ্যান্টিহিস্টামিনিক ড্রাগস
এগুলি অ্যালার্জিগত প্রতিক্রিয়ার উপসর্গগুলির চিকিৎসায় সাহায্য করে। এগুলি সাইনাসগুলির এবং নাসিকাগত গহ্বরের প্রদাহ প্রতিরোধ করে।

২.নেজাল ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট স্প্রে
এগুলি ফলদায়ক হতে পারে যদি তিন থেকে চার দিনের একটা অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। সাইনাসগুলি থেকে জমা তরল পদার্থ নিষ্কাশিত (বার করা) করতে এগুলি সাহায্য করে। যাই হোক, এগুলির দীর্ঘ-মেয়াদী ব্যবহার নির্ভরতা সৃষ্টি করতে পারে যেক্ষেত্রে যদি ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট (বাধা দূর করার ওষুধ) ব্যবহার না করা হয় নাসিকাগত পথগুলি ফোলা এবং শ্লেষ্মার কারণে বন্ধ হয়ে যাবে।

নেজাল স্যালাইন ইরিগেশনস
আপনার নাসিকাগত পথগুলি বিশুদ্ধ অথবা লবণাক্ত জল ব্যবহার করে ধুইয়ে ফেলুন এবং ঘন শ্লেষ্মা ক্ষরণ সাফ করে ফেলুন।

টপিক্যাল নেজাল কর্টিকোস্টেরয়েডস
এগুলো প্রদাহ চিকিৎসা করতে বিধান দেওয়া হয়। এই ওষুধগুলির স্বাভাবিক ডোজ একটা দীর্ঘস্থায়ী সময়ের জন্য কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা আসক্তি (অভ্যাসগ্রস্ত হওয়া) ছাড়া ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩.অ্যান্টিবায়োটিকস
এটা সাইনুসাইটিস-এর জন্য প্রচলিতভাবে ব্যবহৃত কোনও থেরাপি নয় কারণ অ্যাকিউট (তীব্র কিন্তু অল্পস্থায়ী) সাইনুসাইটিস-এর 98% সংক্রমণ হল ভাইরাস বা জীবাণুর কারণে। জীবাণুগত সাইনাস সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকগুলি হচ্ছে চিকিৎসার প্রাথমিক পদ্ধতি। এগুলি উপসর্গগুলি থেকে কোনও উপশম প্রদান করেনা, যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার সাথে অন্যান্য প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধগুলি অপরিহার্য হয়। যেহেতু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বেড়ে গিয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিকগুলির সাধারণতঃ বিধান দেওয়া হয় যখন উপসর্গগুলি ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়।

৪.অস্ত্রোপচার
যখন সমস্ত ওষুধ প্রয়োগ ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে তখন এটা হচ্ছে চিকিৎসার সর্বশেষ বিকল্প। এটা সাধারণতঃ হাড়সংক্রান্ত খুঁতের কেসগুলিতে দরকার হয় এবং একজন ওটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট (কান, নাক এবং গলার অসুখের বিশেষজ্ঞ) দ্বারা সম্পাদন করা হয়। নাকের ভিতরের পর্দাতে ত্রুটি সংশোধন, নাকের অস্বাভাবিক টিস্যু বৃদ্ধিগুলির অপসারণ, এবং বন্ধ পথগুলি খুলে দিতে অস্ত্রোপচার সাহায্য করতে পারে। অবস্থার উপরে ভিত্তি করে এটা স্থানীয় বা সাধারণ (সার্বিক) অ্যানেস্থেজিয়ার (সংবেদননাশক) অধীনে সম্পন্ন করা হতে পারে।

৫.প্রচুর বিশ্রাম নিন
পর্যাপ্তভাবে বিশ্রাম নেওয়া দ্রুততর আরোগ্যলাভে এবং আপনার রোজকার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরতে সাহায্য করবে।

৬.আপনার শরীর জলযুক্ত রাখুন
প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, যা আপনার শ্লেষ্মা পাতলা রাখতে সাহায্য করবে।

৭.ধূমপান এড়িয়ে চলুন
ধূমপান থেকে দূরে থাকা নাসিকা-সংক্রান্ত এবং সাইনাসের আস্তরণের আরও বেশি চুলকানি এবং জলহীনতা প্রতিরোধ করবে এবং দ্রুতগতিতে আরোগ্যলাভ করতে সাহায্য করবে।

৮.ভাপ (গরম জলের বাষ্প শ্বাস) নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নিন
গরম জলের ধারাস্নানে একটা দীর্ঘ সময় ধরে থাকুন অথবা কোনও পাত্র থেকে বাষ্প ওঠা গরম জলের ভাপ নিঃশ্বাসে টেনে নিন। একটা চেয়ারে অথবা মাটিতে বসে থাকার সময় এবং পাত্রটা আপনার সামনে রেখে পাত্রটার উপরে ঝুঁকে পড়ুন। আপনার মাথাটা একটা পুরু কাপড় দিয়ে ঢেকে নিন বেশি ভাপ নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নেওয়া এবং জলটার ঠাণ্ডা হওয়া রোধ করার জন্য।

৯.নাসাপথগুলিতে জলসেচন (জল দিয়ে ধোয়া) করুন
আপনার নাসাপথগুলি একটা লবণজলের দ্রবণ দিয়ে পরিস্কার করুন।

১০.মাথা একটা উঁচু অবস্থানে রেখে ঘুমান
এটা শ্লেষ্মা জমা হওয়া রোধ করবে, যা সাধারণতঃ ঘটে যখন আপনি আপনার মাথা নীচু অবস্থানে রেখে ঘুমান।